মহেশতলা পুরসভা (Maheshtala Municipality) ঘিরে ১০ দফা দাবিতে বিরোধীদের ডেপুটেশন, ১৫ দিনের আলটিমেটামে বাড়ল চাপ
মহেশতলা পুরসভা (Maheshtala Municipality) এলাকায় বর্ষার শুরুতেই বেহাল রাস্তা, ভেঙে পড়া নিকাশি ব্যবস্থা এবং একাধিক নাগরিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ সামনে এনে বিজেপির জেলা সভাপতি সোমা ঘোষ, মানসী সাহা, অভিজিৎ সরদার, তমনাথ ভৌমিক সহ মহেশতলার 6 টি মন্ডলের ৬ জন মন্ডল সভাপতি সহ কর্মী সমর্থকরা পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে ১০ দফা লিখিত দাবি সম্বলিত একটি ডেপুটেশন জমা দিয়েছে। মহেশতলা পুরসভার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলো একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর গণ-আন্দোলন শুরু হবে।
![]()
মহেশতলা পুরসভায় বেহাল রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ
ডেপুটেশন জমা দেওয়ার পর আন্দোলনকারী নেতারা অভিযোগ করেন, মহেশতলা পুরসভা (Maheshtala Municipality) এলাকার অধিকাংশ রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। অসংখ্য খানাখন্দের কারণে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বর্ষা শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নিকাশি নালা ও খালগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যাচ্ছে। বহু বাড়িতে জল ঢুকে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
![]()
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ও জল জীবন মিশন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ
বিরোধী নেতৃত্বের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে প্রকৃত উপভোক্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পাকা বাড়ির মালিকদের আবাসনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপভোক্তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে জল জীবন মিশন প্রকল্পেও বৈষম্যের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় দেখে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে, ফলে বহু পরিবার এখনও বিশুদ্ধ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত।
![]()
সরকারি স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণ নিয়ে প্রশ্ন
ডেপুটেশনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পুরসভার অর্থে গড়ে ওঠা কস্তুরী দাস মেমোরিয়াল, মাতৃসদন এবং উৎপল দত্ত মঞ্চ বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, এর ফলে সাধারণ মানুষ সুলভ চিকিৎসা ও সাংস্কৃতিক পরিষেবা থেকে ধীরে ধীরে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি গঙ্গার তীরবর্তী এলাকায় বেআইনি নির্মাণ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
![]()
১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
বিরোধী নেতৃত্ব জানিয়েছে, নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য পুরসভাকে ১৫ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাস্তা সংস্কার, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে আগামী দিনে আরও বড় গণ-আন্দোলন সংগঠিত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বর্ষার মরসুমে নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন এখন সবচেয়ে জরুরি। তাই পুরসভার দ্রুত পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে মহেশতলার মানুষের।
![]()