ববি চক্রবর্তীর আসক্তি বিরোধী অভিযান: ৪৮৭তম অধিবেশনে ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা
কলকাতা: ববি চক্রবর্তীর আসক্তি বিরোধী অভিযান আবারও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলল। গত ১৫ জুলাই বেহালার ন্যাশনাল জেমস হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে অনুষ্ঠিত হলো তাঁর বিশ্বব্যাপী বিনামূল্যের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ‘আমিই আমার মনের রাজা’-এর ৪৮৭তম অধিবেশন। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শতাধিক ছাত্রছাত্রী এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আসক্তিমুক্ত জীবন, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা লাভ করে।
ববি চক্রবর্তীর আসক্তি বিরোধী অভিযানে ছাত্রছাত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ
প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে হাস্যরস, বাস্তব অভিজ্ঞতা, আবেগঘন গল্প, সামাজিক পরীক্ষা এবং ভূমিকাভিনয়ের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরা হয় আধুনিক সমাজের বিভিন্ন আসক্তির বিপজ্জনক দিক।
শুধু ধূমপান বা মাদক নয়, স্মার্টফোন আসক্তি, অনলাইন গেমিং, অশ্লীল কনটেন্ট, র্যাগিং, সাইবার বুলিং এবং জনপ্রিয়তার মোহে অশালীন ভাষা ব্যবহারের মতো সামাজিক সমস্যাগুলিও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
আয়ুষ্মান, বিহান, বৈভব, অরিত্র, সৌমান্য, রিতোজিৎ, আশুতোষ, অস্মিত, দীপশিখাসহ বহু শিক্ষার্থী বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করে এবং সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
বিশেষ সম্মান ও পুরস্কারে উৎসাহিত শিক্ষার্থীরা
এই অনুষ্ঠানের অফিসিয়াল ফটোগ্রাফারের দায়িত্ব পালন করেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অহিলান বেরা। তাঁকে সহযোগিতা করেন ‘দ্য বেস্ট ফ্রেন্ড’ খেতাবপ্রাপ্ত অনুস্মৃতি ভৌমিক।
অনুষ্ঠানে আরও দুটি বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়—
- দ্য ফার্স্ট সোলজার — পৌষালী দাস (একাদশ)
- দ্য ট্রেন্ডসেটার — সৌনাভ রায় (একাদশ)
সমাপনী সারপ্রাইজ কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন প্রিয়াংশু দত্ত শর্মা, সৌনাভ রায় এবং পৌষালী দাস। বিজয়ীদের হাতে বিশেষ পুরস্কার, কাস্টমাইজড HCF টি-শার্ট এবং সমাজসেবা সার্টিফিকেট তুলে দেন ববি চক্রবর্তী।
স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সফল আয়োজন
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা জয়শ্রী রায়ের নেতৃত্বে এবং ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর পারমিতা মিত্রের পরিকল্পনায় এই সচেতনতামূলক কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পরিচালন সমিতির সদস্যদের সক্রিয় সহযোগিতায় পুরো অনুষ্ঠানটি ছাত্রছাত্রীদের কাছে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে ববি চক্রবর্তীর আসক্তি বিরোধী অভিযান
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। অনেকেই মনে করেন, বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ও ডিজিটাল আসক্তির বাড়বাড়ন্তের মধ্যে এই ধরনের উদ্যোগ কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ববি চক্রবর্তীর বক্তব্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ, ইতিবাচক চিন্তা এবং নিজের জীবনের দায়িত্ব নিজের হাতে নেওয়ার যে বার্তা উঠে আসে, তা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
ববি চক্রবর্তীর আসক্তি বিরোধী অভিযান শুধুমাত্র একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি নয়; এটি তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ, দায়িত্বশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার এক দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলন। ৪৮৭তম অধিবেশনও সেই ধারাবাহিকতাকে আরও শক্তিশালী করল এবং বেহালার ন্যাশনাল জেমস হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মনে ইতিবাচক পরিবর্তনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।
I thank 24x7newsbengal and Mr. Joyonto Parbat for this strong support towards my anti addiction campaign over the years 🙏❤.