মহেশতলা পশ্চিম পুঁটখালী দুর্গোৎসব জমি বিতর্ক ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে জটিলতা। এলাকার প্রায় ২৮ বছরের পুরনো বাসিন্দাদের অভিযোগ, একসময় এই এলাকায় তেমন কোনও বসতি ছিল না। পরবর্তীকালে জগন্নাথ সাউ নামে এক ল্যান্ড ব্রোকার জমি কিনে প্লট তৈরি করে বিক্রি করেন। সেই সময় নির্দিষ্ট একটি জমি কমিউনিটি হল এবং দুর্গাপুজোর জন্য ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি বাসিন্দাদের।
স্থানীয়দের বক্তব্য, ওই প্রতিশ্রুতির উপর আস্থা রেখেই বহু মানুষ এলাকায় জমি কিনে বসবাস শুরু করেন। এরপর দীর্ঘ বছর ধরে সেই জমিতেই নিয়ম মেনে দুর্গাপুজোর আয়োজন হয়ে আসছে। ফলে বর্তমানে জমিটি নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে।
মহেশতলা পশ্চিম পুঁটখালী দুর্গোৎসব জমি বিতর্কের সূত্রপাত কীভাবে?
পুজো উদ্যোক্তাদের দাবি, ২০১৪ সালে জগন্নাথ সাউয়ের মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনিই দুর্গাপুজো এবং কমিউনিটি হলের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি ও এনওসি দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতেন। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর সময়েই ওই জায়গায় দুর্গামণ্ডপ তৈরি করা হয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থাও করা হয়।
কিন্তু জগন্নাথ সাউয়ের মৃত্যুর পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। তাঁদের দাবি, বর্তমানে তাঁর ছেলে-মেয়েরা ওই জমির জন্য বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন।
![]()
পুরনো এনওসি ঘিরে উঠছে প্রশ্ন
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরনো এনওসি-সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে না পারাকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, আইনের ভয় দেখানো এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পুজো কমিটিকে চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে জমির মালিকানা, পুরনো অনুমতি এবং এনওসি-র বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট নথি ও আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হতে পারে।
দেখুন ভিডিও
থানায় আলোচনা, পুজো নিয়ে কী সিদ্ধান্ত?
ইতিমধ্যেই মহেশতলা পশ্চিম পুঁটখালী দুর্গোৎসব জমি বিতর্ক নিয়ে স্থানীয় থানায় আলোচনা হয়েছে বলে পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের এই দুর্গোৎসব যাতে কোনওভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। তাঁদের দাবি, চলতি দুর্গাপুজো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার পর জমি সংক্রান্ত সমস্ত দাবি, নথি এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখে একটি স্থায়ী সমাধানের পথে এগোতে তাঁরা প্রস্তুত।

পুজোর পরেই কি মিলবে স্থায়ী সমাধান?
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে যে জায়গাকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে, সেই ঐতিহ্য যেন কোনওভাবেই নষ্ট না হয়। একই সঙ্গে জমি সংক্রান্ত আইনি ও মালিকানা প্রশ্নেরও একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রয়োজন বলে তাঁদের দাবি।
ফলে মহেশতলা পশ্চিম পুঁটখালী দুর্গোৎসব জমি বিতর্ক এখন কোন পথে এগোয়, তা নিয়ে নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। পুজো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার পর উভয় পক্ষের নথি, দাবি ও বক্তব্য পর্যালোচনা করে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান বের করার আশ্বাসই আপাতত সামনে এসেছে।