হলদিয়ায় ববি চক্রবর্তীর আসক্তি বিরোধী অভিযান নতুন দৃষ্টান্ত গড়ল
ববি চক্রবর্তীর আসক্তি বিরোধী অভিযান আবারও প্রমাণ করল, সঠিক সচেতনতা ও ইতিবাচক অনুপ্রেরণা তরুণ প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। গত ২২ জুলাই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়ার বাজিতপুর সারদামণি বালিকা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশ্বব্যাপী সচেতনতা কর্মসূচির ৪৮৮তম অধিবেশন, যেখানে শতাধিক ছাত্রী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুমনা পাহাড়ি-র উদ্যোগে এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন নিমাই জানা। সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীরা এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আসক্তিমুক্ত জীবনের গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করে।
![]()
ববি চক্রবর্তীর আসক্তি বিরোধী অভিযান কী বার্তা দিল?
কলকাতার বিশিষ্ট অভিনেতা, সমাজকর্মী এবং মেথড অ্যাক্টিং প্রশিক্ষক ববি চক্রবর্তী গত দুই দশক ধরে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য পরিচালনা করে আসছেন তাঁর জনপ্রিয় সচেতনতামূলক কর্মসূচি ‘আমিই আমার মনের রাজা’।
এই ইন্টারেক্টিভ সেশনে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা, মজাদার কার্যকলাপ, সামাজিক পরীক্ষা এবং অংশগ্রহণমূলক আলোচনার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরা হয়—
- ধূমপানের ক্ষতি
- মদ্যপানের কুফল
- স্মার্টফোন আসক্তির বিপদ
- সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার
- অনলাইন গেমিং ও জুয়ার ঝুঁকি
- র্যাগিং ও বুলিং প্রতিরোধ
- অশালীন ভাষা ও অনলাইন অশ্লীলতার নেতিবাচক প্রভাব
পুরো কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল তরুণ প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল এবং নেশামুক্ত জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা।
![]()
অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মান পেলেন একাধিক ছাত্রী
অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ফটোগ্রাফারের দায়িত্ব পালন করেন নবম শ্রেণির সৌমিলি মান্না।
‘প্রথম সৈনিক’ ও ‘ট্রেন্ডসেটার’ সম্মান অর্জন করেন দ্বাদশ শ্রেণির অনুষ্কা বেরা, যিনি পুরো অনুষ্ঠানে সবচেয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের একজন ছিলেন।
‘সেরা বন্ধু’ সম্মান পান একাদশ শ্রেণির সম্পূর্ণা জানা, যিনি কারিগরি সহায়তাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
শেষ পর্বের মজার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন—
- রিতিকা মাজি (একাদশ)
- ইশিকা বেরা (নবম)
- অঙ্গোনা সাহু (নবম)
বিজয়ীদের হাতে বিশেষ পুরস্কার, কাস্টমাইজড HCF টি-শার্ট এবং সমাজসেবা সনদপত্র তুলে দেন ববি চক্রবর্তী।
আরো পড়ুন – ববি চক্রবর্তীর আসক্তি বিরোধী অভিযান | ৪৮৭তম সচেতনতা কর্মসূচিতে মুগ্ধ বেহালার ছাত্রছাত্রীরা
![]()
প্রধান শিক্ষিকার প্রশংসায় ভাসলেন ববি চক্রবর্তী
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান শিক্ষিকা সুমনা পাহাড়ি ববি চক্রবর্তীর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, টানা তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এত সংখ্যক ছাত্রীর মনোযোগ ধরে রাখা এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সত্যিই প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরও বহু ছাত্রী ববি চক্রবর্তীর সঙ্গে দেখা করতে, অটোগ্রাফ নিতে, সেলফি তুলতে এবং নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিতে ভিড় জমায়। অনেকেই তাঁকে “ববি দাদা” বলে সম্বোধন করে ভবিষ্যতে সমাজের জন্য কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করে।
![]()
ববি চক্রবর্তীর আসক্তি বিরোধী অভিযান কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমান সময়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে স্মার্টফোন নির্ভরতা, সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের নেশার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রতিরোধমূলক সচেতনতা কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে এবং সঠিক জীবনবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
হলদিয়ার এই ৪৮৮তম আসক্তি বিরোধী অভিযান সেই দিক থেকেই একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
![]()