মুর্শিদাবাদ বহরমপুর ট্রেন দুর্ঘটনা: কর্ণসুবর্ণ রেলগেটে স্কুল ভ্যানে ট্রেনের ধাক্কা, মৃত্যু ৩ পড়ুয়ার, আহত একাধিক শিশু
স্বাগতম মজুমদার : মুর্শিদাবাদ বহরমপুর ট্রেন দুর্ঘটনা পশ্চিমবঙ্গকে আবারও শোকের আবহে ডুবিয়ে দিল। শুক্রবার সকালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানার অন্তর্গত কর্ণসুবর্ণ রেলগেটে একটি স্কুল ভ্যান ট্রেনের ধাক্কায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে আরও বেশ কয়েকজন শিশু। আহতদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কীভাবে ঘটল মুর্শিদাবাদ বহরমপুর ট্রেন দুর্ঘটনা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে একটি স্কুল ভ্যানে করে কয়েকজন খুদে পড়ুয়া স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। কর্ণসুবর্ণ এলাকার রেলগেটটি তখন খোলা ছিল। সেই সময় ভ্যানটি রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে আচমকাই দ্রুতগতির একটি ট্রেন এসে সজোরে ধাক্কা মারে।
ধাক্কার অভিঘাতে স্কুল ভ্যানটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান।
আহত শিশুদের চিকিৎসা চলছে
দুর্ঘটনার পর আহত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকজন শিশুর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাদের চিকিৎসা করছে।
![]()
এলাকায় শোক ও উত্তেজনা
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্ঘটনার কারণ এবং রেলগেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
তদন্তে কী কী বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে?
প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখছেন—
- রেলগেট খোলা ছিল কেন?
- স্কুল ভ্যান চালকের কোনও গাফিলতি ছিল কি না।
- ট্রেনের গতি এবং সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ঠিকভাবে কার্যকর ছিল কি না।
- রেলগেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না।
তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
মুর্শিদাবাদ বহরমপুর ট্রেন দুর্ঘটনা আবারও রেলগেট নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। নিরীহ শিশুদের প্রাণহানির এই ঘটনা গোটা রাজ্যকে শোকাহত করেছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধি।